রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
নারীর হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে রকমারি চটের ব্যাগ আর কার্ড। শপিং ব্যাগ, ডল ব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার ব্যাগ, স্কুল ব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ, নারীদের পার্টসসহ পাটজাত দ্রব্য। রকমারি এসব বিদেশে রপ্তানি করছেন প্রতিষ্ঠানের নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিকেরা। বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় হচ্ছে।
এসব পণ্য মানে ও গুণে বিদেশীদের আকৃষ্ট করছে। দিন দিন বাড়ছে চটের ব্যাগ ও হাতে তৈরি কার্ডের চাহিদা। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার চিনি মসজিদ এলাকা। সেখানে ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া নারীরা। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। এর আগে নারীরা এমসিসির একটি প্রকল্পের আওতায় চটের ব্যাগ ও কার্ড তৈরির কাজ করতেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ঐ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে মজুরি পেতেন নারীরা। প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে তারা বেকার হয়ে পড়েন।
পরবর্তীকালে ১৯৯১ সালে ঘটে দিনবদল। নিজেরা সবাই মিলে সঞ্চয়ের টাকায় গড়ে তোলেন ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সংস্থা। ১৬ শতক জমিতে ছয়তলার ভিত্তি দিয়ে চার তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে ১১০ জন নারী উদ্যোক্তা শ্রমিক ও ১৫জন কর্মকর্তা নিরলসভাবে তৈরি করছেন চটের রকমারি ব্যাগ ও হাতে বানানো কার্ড। এসব পণ্য আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।
এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সৈয়দপুর বিহারি ক্যাম্পের শাহানা আক্তার। সাত সদস্যের সংসার তার। একসময় অভাব-অনটন লেগেই থাকতো নিত্যদিন। এখানে কাজ করে পরিবারের অর্থাভাব দূর করেছেন। শাহানা বলেন,‘এখানে আমরা যারা কাজ করি তারা সবাই নারী। ভিতরে পরিবেশ অত্যন্ত ভালো। ঠিকমত টাকা-পয়সা পাই। এর মাধ্যমে আমার সংসারে ¯া^চ্ছন্দ্য ফিরেছে।’
নারায়ণগঞ্জ, ডেমরাসহ অন্যান্য স্থান থেকে উৎকৃষ্ট মানের পাট ও চট সংগ্রহ করেন তারা। তারপর মেশিনে কাটিংয়ের পর সেলাই করে বানানো হয় উন্নতমানের এসব চটের ব্যাগ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী স্ক্রিন প্রিন্ট ও অন্যান্য কারুকাজ করা হয়। এসব ব্যাগ খুবই টেকসই ও মজবুত। এখানে পুরনো কাপড় থেকেও নারীরা ব্যাগ তৈরি করে বিশ^কে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে প্রতিনিয়ত বিদেশী ক্রেতাদের চাহিদা ও অর্ডার বেড়েই চলছে।
‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ প্রতিষ্ঠার পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন মো: গিয়াসউদ্দিন (৫৫)। যিনি সবার কাছে সৎ, কর্মঠ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে সম্মানিত। এই প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আলাপচারিতায় তিনি বলেন,‘অনলাইন ও বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের ডিজাইন দেখিয়ে অর্ডার নেওয়া হয়। আমাদের সব ক্রেতাই যেহেতু বিদেশী, সেহেতু তাদের চাহিদানুযায়ী চটের ব্যাগ ও কার্ড তৈরি করে সরবরাহ করে থাকি। এখানে যারা কাজ করেন, সব নারীই উদ্যোক্তা ও শ্রমিক। ফলে কেউ কাজে কখনো ফাঁকি দেন না।’
তিনি আরো বলেন, পারিশ্রমিক ও লাভের অংশ ভাগ বাটোয়ারার পর প্রতি বছর ৫-৬শত প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুলের ইউনিফর্ম বিতরণ করা হয়। গরিব ও মেধাবী এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ইউনিফর্ম বিতরণ করতে পেরে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্ণধার হিসেবে গর্ব বোধ করেন তিনিভ ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং সেন্টার খোলার ইচ্ছা পোষণ করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, এতে গরিব, অভাবী নারীদের কাজ করার আগ্রহ ও মানসিকতা সৃষ্টি হবে। নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন তারা।